তারিখ লোড হচ্ছে...
|

GAUTAM

গৌতম • দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সংবাদ

শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদের শিরোনাম লোড হচ্ছে...
সর্বশেষ প্রধান সংবাদ লোড হচ্ছে...

অন্যান্য সকল সংবাদ

চন্দনাইশে কানাইমাদারী বির্দশনারাম ১৮ নভেম্বর শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত হবে

October 26, 2026 • NEWS

 

চন্দনাইশে কানাইমাদারী বির্দশনারামে এ ১৮ নভেম্বর শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত হবে



নিজস্ব প্রতিবেদক: আত্মপ্রীতি ও আত্মসংযমের বার্তা নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তিন মাস পবিত্র বর্ষব্রত পালনের পর আনন্দের সাথে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণার অম্লান চেতনার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় দুঃখমুক্তি ও পারমী পূরণের অন্যতম ক্ষেত্র “দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান”। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কানাইমাদারী বিদর্্শনারামে আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (০৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ) বর্ণাঢ্য ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ‘দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ২০২৬’।

কানাইমাদারী বির্দশনারাম বৌদ্ধ বিহার কমিটি ও গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই মহোৎসবে দিনব্যাপী নানা মাঙ্গলিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনের কর্মসূচি:

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ১৮ নভেম্বর ভোর ৫:০১ মিনিটে বিশ্বশান্তি কামনায় সূত্রপাঠ এবং সকাল ৬:০১ মিনিটে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর প্রাতঃরাশ, পরমপূজ্য অগগমমহাপণ্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবিরসহ অন্যান্য প্রয়াত বিহারধ্যক্ষগণ ও জ্ঞাতিগণের পারৌকিক সদ্‌গতি কামনায় অষ্টাপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করবেন সদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ শিক্ষাবিদ বসুমিত্র মহাস্থবির।

দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১:৩০ মিনিটে মঙ্গলাচরণ, উদ্বোধনী সংগীত ও সদ্ধর্মালোচনার আয়োজন রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাবেক মহাসচিব ও উপ-সংঘরাজ শাসনভাণ্ডর ভদন্ত শাসনপ্রিয় মহাস্থবির। প্রধান জ্ঞাতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুন্সীপাড়া বিবেকরাম বিহারের অধ্যক্ষ সৌম্য সারথী ভদন্ত শাসনমিত্ত মহাস্থবির।

প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ:

উক্ত মহোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চন্দনাইশ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান এবং চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান সদ্ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোগলটুলী শানভূমি শাক্যমুনি বুদ্ধ বিহার ও প্রজ্ঞাজ্যোতি ধ্যানকেন্দ্রের পরিচালক ও অধ্যক্ষ ধর্মদূত ভদন্ত তলোকাবংশ মহাস্থবির। দিনব্যাপী এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য বহু প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করবেন।

সন্ধ্যা ৬:০০ টায় বিশ্ব শান্তি কামনায় সূত্রপাঠ ও চুলামণি চৈত্যের উদ্দেশ্যে ফানুস ও প্রদীপ পূজা অর্পণের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।

কানাইমাদারী বিদর্্শনারাম বৌদ্ধ বিহার কমিটি ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে উক্ত মহতী বর্ণাঢ্য পুণ্যপুষ্পিত দিনব্যাপী মাঙ্গলিক আয়োজনে ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থী ও সর্বস্তরের বৌদ্ধ নরনারীদের স-বান্ধব উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে।

রামু ট্র্যাজেডি: সম্প্রীতি ফিরলেও ১৪ বছর ধরে ঝুলছে বিচার

October 25, 2026 • NEWS

 

রামু ট্র্যাজেডি: সম্প্রীতি ফিরলেও ১৪ বছর ধরে ঝুলছে বিচার


কক্সবাজারের রামু বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ পল্লিতে সহিংসতার ১৪ বছর পূরণ হলো আজ। ভয়াল সেই রাতের তাণ্ডবের ক্ষত মুছে নান্দনিকতা ফুটেছে উপসনালয় ও আবাসনে। ধীরে ধীরে ফিরেছে সম্প্রীতিও। কিন্তু বিচার ব্যবস্থায় চরম অনাস্থা জমেছে ক্ষত-বিক্ষত হওয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর।

ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেই রাতের তাণ্ডবের বিচার একচুলও এগোয়নি। সাক্ষীর অভাবে বিচার কার্যক্রম এগুচ্ছে না বলে দাবি বিচার সংশ্লিষ্টদের। ফলে বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিয়ে ক্লান্ত অভিযুক্তরা। কিন্তু যার ফেসবুকে কুরআন অবমাননার অভিযোগে এ ঘটনা, সেই উত্তম বড়ুয়া সপরিবারে বিদেশে থিতু হয়েছেন।

সূত্রমতে, ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুতে বৌদ্ধবিহার ও বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেদিন রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন বিকেলে উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে আরও সাতটি বিহার ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ধ্বংস হয় কয়েকশ বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পুরাকীর্তি।

জানা যায়, দীর্ঘ একযুগের ব্যবধানে এলাকায় ফিরেছে সম্প্রীতি। পুড়ে যাওয়া বিহারের স্থলে দাঁড়িয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। ধর্মীয় উৎসব ও পূজাপার্বণে বিহার প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে পূণ্যার্থীতে। আসেন পর্যটকও। বাড়ে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি।

বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ, কক্সবাজারের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধরা দৃষ্টিনন্দন বিহার পেয়েছে। হারানো সম্পদের অনেকটা নতুন করে তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় সম্প্রীতি ফিরেছে। কিন্তু মামলাগুলোর বিচার এখনো এগোইনি। এসব কারণে বৌদ্ধদের মাঝে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১৪ বছর আগে উত্তম বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লিতে হামলা হয়েছিল। রামু সদরের ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপী গ্রামের বাসিন্দা সুদত্ত বড়ুয়ার ছেলে উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে ফ্রান্সে রয়েছেন। তার স্ত্রী, ছেলেও সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।

আরও জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের সেই রাতের পর থেকে উত্তম বড়ুয়ার কোনো খোঁজ ছিল না। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে নিজের উপস্থিতির জানান দেন তিনি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ তের বছর তের দিন পর আমাদের দেখা।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তম বড়ুয়ার কিছু স্বজন জানান, ঘটনার পর উত্তম বড়ুয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে ভারতে চলে যান। পরে ভারত থেকে ফ্রান্সে যান। বর্তমানে দেশে তার তেমন যোগাযোগ নেই।

রামু উপজেলা সদরে সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা মনোরম পরিবেশে চারটি বৌদ্ধ বিহার দাঁড়িয়ে আছে। অনিন্দ্য নির্মাণশৈলী ও কারুকাজে সাজানো বিহারগুলো সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ভেতরে সংরক্ষিত রয়েছে ঐতিহাসিক বৌদ্ধ পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নানা নিদর্শন। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে থাকা লালচিং, সাদাচিং ও অর্পণাচরণ বৌদ্ধ মন্দির এবং মৈত্রী বিহার দেখে ১৪ বছর আগে এখানে কী ঘটেছিল, তা এখন বোঝার উপায় নেই। বর্তমানে এসব বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রার্থনার পাশাপাশি পর্যটকদেরও ভিড় দেখা যায়।

শুধু এই চারটি বিহার নয়, রামু বালিকা ও খিজারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার, উত্তর মিঠাছড়ির ১০০ ফুট দীর্ঘ সিংহশয্যা ও প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে দর্শনার্থীদের আনাগোনা উল্লেখ করার মতো।

বিহার সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৪ বছর আগে বিহারগুলোর অনেক স্থাপনা ছিল নান্দনিক কারুকাজ করা কাঠের তৈরি। অগ্নি-তাণ্ডবের পর নতুন করে নির্মাণের সময় ইট-সুরকি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো শক্তপোক্ত করা হয়েছে। তবে চেষ্টা চলেছে কাঠের পুরোনো কারুকাজের আদল ধরে রাখার।

লালচিং বিহারের পাশের বাসিন্দা সাজু বড়ুয়া বলেন, ২০১২ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেই রাতের বিভীষিকা যেন আমাদের জীবনে আর না আসে। মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। সেদিনের রাতটি ছিল একটি অভিশপ্ত রাত। রামুর অধিকাংশ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ সেই রাতের কথা আর মনে করতে চান না।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পরিচালক শীলপ্রিয় থের বলেন, সেই রাতে আমাদের বৌদ্ধ বিহারগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই সম্পদ ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। মনে পড়লে এখনো চোখে পানি আসে। কঠিন সময় গেছে আমাদের। হারিয়ে যাওয়া দিনের চেয়ে বর্তমানে আমরা অনেক বেশি সম্প্রীতি ভোগ করছি। রামুর মানুষ সম্প্রীতিতে আছে। আগামী দিনেও এই সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। তবে বিচারকাজে ধীরগতিতে মনে অসন্তোষ রয়েছে।

রামু বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়েছিল। একটি মামলা বাদী প্রত্যাহার করে নেন। ১৮টি মামলার বাদী ছিল পুলিশ। এসব মামলায় ৩৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ১৮টি মামলায় ৯৯৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, মামলার বাদী ছিল পুলিশ। তদন্তও তারা করেছে। শুরু থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ ছিল। তৎকালীন সরকার ও বিরোধীদলের রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে এসব মামলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে মামলায় সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ দেখাননি।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের অভিযোগ, মামলার সাক্ষী ও আসামিদের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের অনেকে জানেন না যে তাদের নাম সাক্ষীর তালিকায় রয়েছে। অনেক নিরীহ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে।

সীমাবিহার এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট সুমথ বড়ুয়া বলেন, পুলিশের করা মামলাগুলোয় অনেক নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে স্বাধীন তদন্ত বা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তাহলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে আর নিরীহরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উখিয়ার চারটি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বর্তমানে ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় কোনো কোনোটিতে পাঁচজন, আবার কোনো কোনোটিতে সাত থেকে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মূলত সাক্ষীদের অনাগ্রহে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ঘিরে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ বুদ্ধ উপাসনাসহ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠানে পালন করছেন।

প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য - প্রধানমন্ত্রী

October 25, 2026 • NEWS

 

প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য - প্রধানমন্ত্রী


বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সনাতন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সনাতন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোয় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

মতবিনিময়কালে সনাতন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। একইসঙ্গে সনাতন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট অনুদান চেয়েছিল ৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তাদের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার।  

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট /বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব

October 24, 2026 • NEWS

 

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব


 

 প্রবারণা পূর্ণিমা  বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। ‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা, নিষেধ করা ইত্যাদি। ‘বরণ করা’ অর্থে বিশুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালিত করার আদর্শে ব্রতী হওয়া, আর ‘নিষেধ’ অর্থে আদর্শ ও ধর্মাচারের পরিপন্থী কর্মগুলো পরিহার করাকে বোঝায়। বর্ষাবাস সমাপনান্তে ভিক্ষু সংঘ আপন আপন দোষত্রুটি অপর ভিক্ষু সংঘের কাছে প্রকাশ করে তার প্রায়শ্চিত্ত বিধানের আহ্বান জানায়। এমনকি অজ্ঞাতসারে কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। শ্রাবস্তীর জেতবনে অবস্থানকালে গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষু সংঘে পালনীয় হিসেবে এর প্রবর্তন করেন।

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে প্রবারণা পালিত হয়। প্রবারণার পর ভিক্ষু সংঘকে অধীত জ্ঞান প্রচারের জন্য গ্রামে-গঞ্জে যেতে হয়। এ সময় তাঁরা কল্যাণের বাণী প্রচার করেন, যাতে মানুষসহ সব প্রাণীর কল্যাণ সাধিত হয়। এভাবে প্রবারণা শেষ হওয়ার পর প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে পালিত হয় কঠিন চীবর দান উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমার অন্য একটি উৎসবময় দিক হলো ফানুস ওড়ানো। বৌদ্ধশাস্ত্রমতে বুদ্ধদেব আধ্যাত্মিক শক্তিবলে দেবলোকে গিয়ে মাকে ধর্মদেশনা করে এদিন স্বর্গ থেকে মর্তে অবতরণ করেন। এ কারণে বৌদ্ধরা প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে প্রদীপ প্রজ্বালনের প্রতীকরূপে ফানুস উত্তোলন করে।